LandCare
ল্যান্ডকেয়ার সার্ভে এন্ড কনসালটিং, রাজশাহী

ফারায়েজের তিনটি বিশেষ নীতি: মাসআলা আল-মুশতারাকা, মাসআলা আল-আকদারিয়্যাহ ও সাহেবাইন-এর নীতি

ফারায়েজের তিনটি বিশেষ নীতি: মাসআলা আল-মুশতারাকা, মাসআলা আল-আকদারিয়্যাহ ও সাহেবাইন-এর নীতি
  ফারায়েজের এই তিনটি বিশেষ নীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায়শই এদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নিচে এক নজরে বোঝার জন্য সহজ ব্যাখ্যা, শর্তাবলী এবং এদের অন্য নাম (যদি থাকে) তুলে ধরা হলো। এক নজরে ফারায়েজের ৩টি বিশেষ নীতি ১. মাসআলা  আল-মুশতারাকা  (The Principle of Partnership) অন্য নাম:   এই নীতিটি "মাসআলা আল-হিমারিয়্যাহ" বা   "গাধার মাসআলা"   নামেও বিখ্যাত। খলিফা উমর (রাঃ) এর সময়ের একটি ঘটনার জন্য এই নামকরণ হয়েছে, যেখানে বঞ্চিত সহোদর ভাই যুক্তি দিয়েছিলেন, "ধরুন আমার পিতা একটি গাধা ছিলেন, কিন্তু আমাদের মা তো একই!" সহজ ব্যাখ্যা (মূল সমস্যা):   সাধারণ নিয়মে, কোরআনিক অংশীদারদের অংশ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা ‘আসাবা’ বা অবশিষ্টভোগী (যেমন সহোদর ভাই) পায়। কিন্তু এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে কোরআনিক অংশীদাররাই সব সম্পত্তি পেয়ে যান, এবং নিকটবর্তী আত্মীয়   সহোদর ভাই   কিছুই পান না, অথচ তুলনামূলক দূরবর্তী   বৈপিত্রেয় ভাই-বোনেরা   (যারা শুধু মায়ের সূত্রে আত্মীয়) ঠিকই অংশ পান। এই অন্যায্য পরিস্থিতি সমাধানের জন্যই মুশতারাকা নীতি... আরো দেখুন...
LandCare
ল্যান্ডকেয়ার সার্ভে এন্ড কনসালটিং, রাজশাহী

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন: ভাই-বোনেরা কখন, কীভাবে সম্পত্তি পান? (হানাফি আইন)

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন: ভাই-বোনেরা কখন, কীভাবে সম্পত্তি পান? (হানাফি আইন)
  আমরা অনেকেই জানি, ইসলামে ভাই-বোনেরা মৃতের সম্পত্তির অংশ পেয়ে থাকেন। কিন্তু কখন, কে, কতটুকু পাবেন—এই বিষয়টি বেশ জটিল। অনেক সময় সামান্য একজন আত্মীয়ের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি পুরো হিসাব বদলে দেয়। আসুন, কয়েকটি সাধারণ পরিস্থিতির মাধ্যমে ভাই-বোনদের উত্তরাধিকারের নিয়মগুলো সহজভাবে জেনে নিই। (মনে রাখবেন: এই আলোচনা তখনই প্রযোজ্য যখন মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান, পিতা বা দাদা জীবিত নেই।) ** পরিস্থিতি ১: যখন বড় ভাই (সহোদর) বেঁচে থাকেন** ধরুন, মৃত ব্যক্তির সহোদর ভাই, সহোদর বোন, সৎ ভাই (বৈমাত্রেয়) ও সৎ বোন (বৈপিত্রেয়) সবাই জীবিত আছেন। শক্তিশালীর প্রাধান্য:   এক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তরাধিকারী হলেন   সহোদর ভাই   (যিনি মৃত ব্যক্তির আপন ভাই)। বঞ্চনার নিয়ম: সহোদর ভাইয়ের উপস্থিতির কারণে   সৎ ভাই-বোনেরা (বৈমাত্রেয়) , অর্থাৎ যারা শুধু বাবার সূত্রে ভাই-বোন, তারা উত্তরাধিকার থেকে   সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবেন । তবে   সৎ ভাই-বোনেরা (বৈপিত্রেয়) , অর্থাৎ যারা শুধু মায়ের সূত্রে ভাই-বোন, তারা বঞ্চিত হবেন না। তারা প্রথমে তাদের নির্দিষ্ট অংশ (একাধিক হলে ১/৩, একজন হলে ১/৬) পাবেন। শেষ কথা... আরো দেখুন...
LandCare
ল্যান্ডকেয়ার সার্ভে এন্ড কনসালটিং, রাজশাহী

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুসলিম উত্তরাধিকার এবং ফারায়েজ বণ্টনের একটি অকাট্য, পরিষ্কার এবং সহজবোধ্য আলোচনা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুসলিম উত্তরাধিকার এবং ফারায়েজ বণ্টনের একটি অকাট্য, পরিষ্কার এবং সহজবোধ্য আলোচনা
মুসলিম ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার আইন ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং মুসলিম পারিবারিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা বাংলাদেশ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-কে মাথায় রেখে শরিয়াহর আলোকে এই সেশনটি এগিয়ে নিয়ে যাব। এই অধ্যাদেশটি, বিশেষ করে এর ৪ নং ধারাটি, উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে, যা আমরা আলোচনার গভীরে গেলে বিস্তারিত জানব। চলুন, এই জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শুরু করা যাক। আমাদের সেশনের প্রথম ধাপ: ফারায়েজ বন্টনের পূর্বশর্ত কোনো মুসলিম ব্যক্তি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বন্টন করা যায় না। শরিয়াহ অনুযায়ী, সম্পত্তি বন্টনের আগে মৃত ব্যক্তির সম্পদ থেকে কিছু দায়-দেনা পরিশোধ করতে হয়। এই ধাপগুলো সম্পন্ন করার পরেই কেবল উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পদ বন্টিত হবে। মৃত ব্যক্তির সম্পদ থেকে যা যা পরিশোধ করতে হবে (ধারাবাহিকভাবে): ১. দাফন-কাফনের ব্যয় নির্বাহ: মৃত ব্যক্তিকে সম্মানজনকভাবে দাফন করার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে সবার আগে মেটাতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার অপচয় করা যাবে না, বরং শরিয়াহ সম্মত পন্থায় খরচ করতে হবে। ... আরো দেখুন...